প্রিয়তিকে স্যালুট

বৃহস্পতিবার, নভেম্বর ১, ২০১৮ ৩:৩৫ AM | বিভাগ : আলোচিত


কিছুদিন আগে একটা পোস্টে বলেছিলাম যে বাংলাদেশে #metoo ক্যাম্পেইন সফল হবে না। ১০/১২ দিন যেতে না যেতেই সে কথার প্রমাণ মিললো! বুকভর্তি সাহস নিয়ে, সমাজ কিংবা ফালতু লোকলজ্জার কথা ভুলে গিয়ে প্রিয়তি যখন সরাসরি কারো দিকে আঙুল তুলেছেন, বলেছেন তার সাথে ঘটে যাওয়া অন্যায় আচরণটির কথা- তখন আমরা বেশিরভাগ মানুষ চুপ করে আছি। অথচ বলিউডে তনুশ্রী দত্ত যখন প্রথম #metoo মুভমেন্ট শুরু করেন তখন সেটি দাবানলের মতো ছড়িয়ে পড়েছিলো সেখানে।

তাহলে আমরা চুপ আছি কেনো? মিডিয়া চুপ কেনো? অভিযুক্ত ব্যক্তি ক্ষমতাধর বলে? তিনি বসুন্ধরা গ্রুপের সহযোগী প্রতিষ্ঠান রংধনু গ্রুপের চেয়ারম্যান এবং নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জের কায়েতপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলাম রফিক বলে?

হয়তো তাই... আর প্রিয়তি নিজেও এটা জানতো। তাই সে লিখেছে- ‘এই লোককে নিয়ে কেউ কোনো নিউজ করবে না, কারণ গণমাধ্যম তাদের ভয় পায়, সাংবাদিকদের চাকরি চলে যাবে। কারণ বেশীরভাগ টিভি চ্যানেল ও পত্রিকা তাদের হাতের মুঠোয়। কিভাবে খুলবে মেয়েরা মুখ? যেখানে জানবে যে তাদের (নিপীড়কদের) কিছুই হবে না। বাংলাদেশের মেয়েরা ততদিন মুখ খুলবে না, #metoo-ও হবে না; ভারতের মতো যেদিন ওরা অনুভব করবে- তাদের জন্য বাংলাদেশের গণমাধ্যম স্বাধীন এবং তাদের পাশে থাকবে সে যত উপরের মানুষই হোক না কেনো।

আমি প্রিয়তির সাথে সম্পূর্ণ একমত। এই অসৎ লোকটি শেষ পর্যন্ত পার পেয়ে যাবে তার ক্ষমতা বলে। আমি নিজে অন্যায়ের প্রতিবাদ করার সময় দেখেছি অপরাধী খুব সুকৌশলে এদেশের আইনকে ব্যবহার করে তার অপরাধ ঢাকতে। ফলে কখনো নির্যাতনের শিকার নারী আবার কখনো অন্যায়ের প্রতিবাদকারীর ঘাড়ে চেপে বসে ৫৭ ধারা!

শুনলাম রফিকুল ইসলাম রফিক নাকি আবার আওয়ামীলীগ-এর ব্যানারে নারায়ণগঞ্জ থেকে এমপি ইলেকশন-এ দাঁড়াচ্ছে। কী ভয়ংকর ব্যাপার! এই লোক যদি আরও পাওয়ারফুল হয় তখন সে আরও কী কী কুকীর্তি করবে এবং পার পেয়ে যাবে সেটা ভেবে গা শিউরে উঠছে।

প্রিয়তি, আপনাকে স্যালুট জানাই। যদিও আমাদের স্যালুট বা ফেসবুকে 'পাশে থাকা'র প্রয়োজন আপনার নেই। আপনি সাহসী নারী। বাংলাদেশের বাইরে নিজের যোগ্যতাকে প্রমাণ করেছেন আপনি। ৭০০ প্রতিযোগীকে হারিয়ে ‘মিস আয়ারল্যান্ড’ নির্বাচিত হয়েছেন। আপনি জেনে রাখুন, আজ যারা আপনার পোশাক নিয়ে কথা বলছে, আপনাকে গালি দিচ্ছে তারা প্রত্যেকেই সম্ভাব্য ধর্ষক। এটাই এদের কাজ। অথচ অন্য দেশে হলে এই রফিকুলকে সবাই বর্জন করতো, সে এখন জেলে থাকতো। তবে, আমি বিশ্বাস করি আজ না হলেও কাল আপনার কাজের মূল্যায়ন হবে। প্রত্যাশা করি আরও অনেকেই আপনার মতো সাহস দেখাবেন এবং নারী নিপীড়কদের মুখোশ টেনে ছিঁড়ে ফেলবেন।
সেই দিনটার অপেক্ষায় রইলাম।

#metoo
#মিটু


  • ১৬৪ বার পড়া হয়েছে

পূর্ববর্তী লেখা পরবর্তী লেখা

বিঃদ্রঃ নারী'তে প্রকাশিত প্রতিটি লেখার বিষয়বস্তু, ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়া ও মন্তব্যসমুহ সম্পূর্ণ লেখকের নিজস্ব। প্রকাশিত সকল লেখার বিষয়বস্তু ও মতামত নারী'র সম্পাদকীয় নীতির সাথে সম্পুর্নভাবে মিলে যাবে এমন নয়। লেখকের কোনো লেখার বিষয়বস্তু বা বক্তব্যের যথার্থতার আইনগত বা অন্যকোনো দায় নারী কর্তৃপক্ষ বহন করতে বাধ্য নয়। নারীতে প্রকাশিত কোনো লেখা বিনা অনুমতিতে অন্য কোথাও প্রকাশ কপিরাইট আইনের লংঘন বলে গণ্য হবে।


মন্তব্য টি

লেখক পরিচিতি

অপরাজিতা সংগীতা

হিউম্যান রাইটস এক্টিভিস্ট।

ফেসবুকে আমরা