অগ্নিপ্রভা দীপিকা সিং রাজাওয়াত

বুধবার, জুন ১২, ২০১৯ ৩:৩১ AM | বিভাগ : সীমানা পেরিয়ে


দীপিকা সিং রাজাওয়াত তুমি অগ্নিপ্রভা। তুমি মানবতাকে শুদ্ধ করেছো।

উচ্চতা পাঁচ ফুট চার ইঞ্চি। ওজন পঞ্চান্ন কেজি। চোখের রঙ বাদামি। চুল কালো দীঘির জল। ত্বক উজ্জ্বল গৌরবর্ণ। বয়স আটত্রিশ। নিবাস কারিহামা গ্রাম। কুপওয়ারা জেলা, কাশ্মীর। ধর্ম হিন্দু, কাশ্মীরি পণ্ডিত। এই দেহ বর্ণনা কোনো অভিনেত্রীর বা ভোগ্যপণ্যে বিজ্ঞাপিত নারীর নয়। এই বর্ণনা "ভয়েস অফ রাইট" এন জি ও-র চেয়ারপার্সনের। ৪ঠা সেপ্টেম্বর দিল্লিতে বৃষ্টি ভেজা সকাল। সারা ভারত মহিলা সমিতির জমায়েতে বলেছিলেন অদম্য লড়াইয়ের কথা।

কাশ্মীরের কাঠুয়া আসিফাকে গণধর্ষণ কাণ্ডে তিনি সবার আগে স্বপ্রণোদিত রিট পিটিশন দাখিল করেছিলেন। আদালতে প্রথম দিনই বার এ্যাসোসিয়েশন তাঁকে বয়কট করে। প্রতিনিয়ত পেয়েছেন প্রাণহানি, ধর্ষণের হুমকি, সহকর্মী আইনজীবীদের উপেক্ষা। জুটেছে দেশদ্রোহী, টেরোরিস্ট তকমা। তবু আপন মনে চলেছিলেন অকুতোভয় ডাল লেকের শিকারা। বলেছেন-" আমি যে কোনো দিন খুন হয়ে যেতে পারি। লাগাতার হুমকিতে একসময় পরিবার পিছিয়ে এসেছিলো- বলেছে- "ছেড়ে দাও না!"

আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে নিজেকে প্রশ্ন করেছেন বারবার কী করা উচিৎ। ভিতর ঘর থেকে উত্তর এসেছে- "আমি একজন মহিলা। আমি একজন মা। আমি একজন আইনজীবী। আমি দেশের একজন নাগরিক। আসিফার হয়ে লড়াইয়ের জন্যে এই কারণগুলিই যথেষ্ট।" পরিবারকে বলেছেন- তোমরা চাইলে সরে যেতে পারো, আমি পারি না।

একক চেষ্টায় মামলা নিয়ে গেছেন কাশ্মীরের হতে পাঠানকোট ফাস্ট ট্র্যাক কোর্টে। বিচারে শেষ পর্যন্ত কাঠুয়ার আসিফা গণধর্ষণ মামলায় ছয়জন দোষী সাব্যস্ত হয়েছেন। জানা গেছে দোষীদের সর্বনিম্ন যাবজ্জীবন কারাদন্ড হতে পারে। যদিও আইনজীবী মহলের একাংশের মতে যেসব ধারায় চার্জশিট দেওয়া হয়েছে তাতে ফাঁসির সাজাও হতে পারে।

দীপিকা সিং রাজাওয়াত (ছবিঃ ইন্টারনেট)

গত বছরের ১০ জানুয়ারি জম্মুর কাঠুয়া জেলায় নাবালিকা আসিফাকে অপহরণ করে মন্দিরে আটকে রেখে লাগাতার গণধর্ষণ ও খুন করা হয়েছিলো। আসিফাকে মন্দিরের মধ্যে প্রধান পুরোহিতের নেতৃত্বে একাধিক নরপিশাচ ধর্ষণ করে পাথর দিয়ে থেঁতলে মারে। স্থানীয় পুলিশও তাতে সামিল ছিল।

সেলাম জানাই আইনজীবী দীপিকা সিং রাজাওয়াত কে।


  • ১১৩ বার পড়া হয়েছে

পূর্ববর্তী লেখা পরবর্তী লেখা

বিঃদ্রঃ নারী'তে প্রকাশিত প্রতিটি লেখার বিষয়বস্তু, ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়া ও মন্তব্যসমুহ সম্পূর্ণ লেখকের নিজস্ব। প্রকাশিত সকল লেখার বিষয়বস্তু ও মতামত নারী'র সম্পাদকীয় নীতির সাথে সম্পুর্নভাবে মিলে যাবে এমন নয়। লেখকের কোনো লেখার বিষয়বস্তু বা বক্তব্যের যথার্থতার আইনগত বা অন্যকোনো দায় নারী কর্তৃপক্ষ বহন করতে বাধ্য নয়। নারীতে প্রকাশিত কোনো লেখা বিনা অনুমতিতে অন্য কোথাও প্রকাশ কপিরাইট আইনের লংঘন বলে গণ্য হবে।


মন্তব্য টি

লেখক পরিচিতি

সুব্রত তালুকদার

কবি সুব্রত তালুকদার একজন সচেতন সমাজকর্মী।

ফেসবুকে আমরা