সচেতনতা জরুরি পরিবারেই

রবিবার, নভেম্বর ৪, ২০১৮ ৪:৫২ AM | বিভাগ : সাম্প্রতিক


অনেক বছর আগে ভারতের একটা সিরিয়ালে দেখেছিলাম একটা মেয়েকে টিনএজে কলেজের কয়েকটা ছেলে একটা ঘরে আটকে রেখে গ্যাং রেপ করে, মেয়েটার পরিবার অর্থনৈতিক ভাবে অসচ্ছল থাকার কারণে মা বাবা বিভিন্ন জায়গায় যায় রোজগার করতে, দীর্ঘ একটা সময় মেয়েটার কোনো খোঁজ কেউ নেয় নি, মেয়েটা ধীরে ধীরে অন্ধকারে তলিয়ে যায়, প্রচন্ড ভাবে মেন্টালি শক খায়, কোনো সময় কাউকে বলে নি তার সাথে হওয়া অমানবিক অত্যাচারের কথা, অনেক বছর পরে মেয়েটাকে একটা লোক ভালোবেসে স্পর্শ করতে গেলে মেয়েটা কেঁপে উঠে অসুস্থ হয়ে যেতো, তখন লোকটা সব জানে মেয়েটার থেকে কেনো এমন আচরণ করে মেয়েটা! যখনি তার গায়ে কোনো পুরুষ হাত দিতে যায় তখনি তার টিনএজে হওয়া বিমর্ষ ঘটনা মনে হয়ে সে অসুস্থ হয়ে যেতো, পরে ধীরে ধীরে পরিবার আর ভালোবাসার মানুষের স্নেহ মমতা মানসিক শক্তি মেয়েটাকে সুস্থ করে স্বাভাবিক জীবনে আনে।

একটা কন্যাশিশু তার সারাজীবনে যতোবার এবিউজ হয় তা যদি লেখা শুরু করে তাহলে কলমের কালি শেষ হবে আর খাতার পাতাও মনে হয় কুলাবে না। এতো গেলো লেখা! সেসব দুর্ধর্ষ ঘটনা মেয়েকে মানসিক ভাবে শারীরিক ভাবে এতোটা অসুস্থ করে ফেলে যে পরবর্তিতে সে আর স্বাভাবিক জীবন যাপন করতে পারে না, কারো সাথে যৌন সম্পর্ক করতে পারে না, এমন কি তার স্বামী যদি ভালো মানুষ হয় তাও সে স্বাভাবিক হতে পারে না।

আমাদের উপমহাদেশে যৌনতাকে একটা ট্যাবু বানিয়ে রেখেছে সমাজ, একটা শিশুকে যখন ছোটবেলা থেকেই যৌনশিক্ষা দেওয়া হবে, কোনটা ভালো আদর আর কোনটা মন্দ আদর এটার পার্থক্য শেখানো হবে, তখন শিশুদের সাথে যদি কেউ এমন আচরণ করে সে বুঝতে পারবে যা হচ্ছে অন্যায় হচ্ছে তখন সে তার মা -বাবাকে জানাবে, সমস্যাটা তখনই সমাধান হবে। কিন্তু আমাদের দেশে যৌনশিক্ষা তো দূরের কথা এসব এমন সিক্রেট ভাবে বড়রা বলাবলি করে যে বাচ্চাদের কৌতুহল আরো বেড়ে যায়, শিশু ঠিকই যৌনশিক্ষা পায় তবে সঠিক শিক্ষা পায় না, ভুল শিক্ষা পায়, সারা জীবন বয়ে বেড়ায় সেই ভুল শিক্ষা। আপনার সন্তান যখন শিখবেই তখন অন্যের কাছ থেকে কেনো শিখবে, আপনিই তাকে শেখান কোনটা সঠিক।

আমি জীবনে ছোটবেলা বড়বেলা বহুবার এবিউজড হয়েছি, বেশীর ভাগ হয়েছি আপন লোকদের দ্বারা, মানসিকভাবে শারীরিকভাবে অনেক বছর অসুস্থ হয়ে ছিলাম, অন্ধকারে তলিয়ে গেছিলাম, আমি চাই না আমার মতো আর একটা শিশু এবিউজড হোক। শুধু মেয়েশিশু নয়, ছেলেশিশুও এবিউজড হয়, তাই দু'জনের দিকেই নজর রাখতে হবে।

অনেক পরিবারে দেখা যায় দাদা বা নানারা নাতনীদের আমার বউ আমার গিন্নি বলে ডাকে তাদের বাজে রকমভাবে আদর করে, আপনি কখনো কি খেয়াল করে দেখেন এতে আপনার বাচ্চাটা কতোটা অস্বস্থি বোধ করে! এমন কেউ করলে কড়া ভাবে নিষেধ করে দিবেন। আপনার সন্তানকে বাবা ভাই ছাড়া অন্য কারো কোলে একলা দেবেন না। অনেক পরিবারে ভালো পড়া-লেখার জন্য কন্যাশিশুকে আত্মীয়ের বাড়িতে রেখে পড়ায়, এই কাজটা কোনো সময় করবেন না, আপনার নিজের সন্তানকে নিজের কাছেই রাখুন। সন্তানের মাঝে কোনো পরিবর্তন দেখলে বা এমন কোন ভাষায় কথা বলতেছে যা আপনার থেকে শিখে নাই তাহলে তাকে প্রশ্ন করুন তাকে কে এসব শেখাচ্ছে, সন্তান কারো নামে নালিশ করলে তাকে গুরুত্ব দিন, তার কথার গুরুত্ব না দিলে সে কখনো তার সাথে এবিউজ হলে আপনাকে বলবে না। সন্তানকে ছোট শিশু না পরিবারের একজন সদস্য হিসেবে ট্রিট করুন। কার সাথে মিশে কোথায় যায় খেয়াল রাখুন। সন্তানকে বাহিরের লোকের সামনে শাসন করবেন না এতে তার আত্মমর্যাদা নষ্ট হয়। চাকুরীজিবি মা-বাবা হলে অবশ্যই সন্তানের জন্য আলাদা সময় রাখুন, তাকে সময় দিন।


  • ১৬৬ বার পড়া হয়েছে

পূর্ববর্তী লেখা পরবর্তী লেখা

বিঃদ্রঃ নারী'তে প্রকাশিত প্রতিটি লেখার বিষয়বস্তু, ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়া ও মন্তব্যসমুহ সম্পূর্ণ লেখকের নিজস্ব। প্রকাশিত সকল লেখার বিষয়বস্তু ও মতামত নারী'র সম্পাদকীয় নীতির সাথে সম্পুর্নভাবে মিলে যাবে এমন নয়। লেখকের কোনো লেখার বিষয়বস্তু বা বক্তব্যের যথার্থতার আইনগত বা অন্যকোনো দায় নারী কর্তৃপক্ষ বহন করতে বাধ্য নয়। নারীতে প্রকাশিত কোনো লেখা বিনা অনুমতিতে অন্য কোথাও প্রকাশ কপিরাইট আইনের লংঘন বলে গণ্য হবে।


মন্তব্য টি

লেখক পরিচিতি

সৈয়দা সুমাইয়া ইরা

চাকুরীজিবি, নারীবাদী।

ফেসবুকে আমরা