পিতৃত্ব শুধু স্পার্ম শেয়ারিং নয়

শনিবার, ফেব্রুয়ারী ৯, ২০১৯ ৯:৩৮ PM | বিভাগ : আলোচিত


তীব্র ঘৃণায়,ক্ষোভে আর এক ধরনের মানসিক অস্থিরতায় মনটা বিষিয়ে উঠছে এটা ভাবলেই, একটি কন্যা শিশু তাহলে ঠিক কোথায় নিরাপদ? ঠিক কতটা যৌন বিকৃতি অথবা মানুষিক বৈকল্য থাকলে একটি শিশুকে তার নিজের পুরুষ পিতাটি শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করতে পারে? একটি ফুটফুটে সাত বছরের শিশু যে কিনা তার বাবার হাত ধরে এই অনিরাপদ পৃথিবীতে নিরাপদ বোধ করবার কথা অথবা বাবার হাতটি ধরে পরম মমতায় নিজের ছোট ছোট চাওয়া, পাওয়া আর আবদারগুলো পূরণ করবার স্বপ্নে মাতোয়ারা থাকবার কথা, সেই শিশুটিই কিনা নিজের বাবার দ্বারা শারীরিকভাবে নিগৃহীত ও লাঞ্ছিত!

এই মানুষরুপী পিশাচ পুরুষটি একজন অবসরপ্রাপ্ত আর্মি অফিসার যে তার বাসার তের বছরের গৃহকর্মীকে রেপ করেছিলো এবং সেই মেয়েটিও প্রেগনেন্ট হয়ে যায় এবং এই শিশুটির বাবা মা এর বিচ্ছেদের এটিও একটি উল্লেখযোগ্য কারণ হিসেবে কন্যাটির মা প্রকাশ করেন। প্রশ্ন হচ্ছে যে, ঠিক এই  ধরনের বিকৃত কামুকতার কারণে কত নারীর জীবন দুর্বিসহ হয়ে উঠছে কিংবা কতটা যৌন বিকৃতি প্রকাশ করে

প্রসঙ্গত, মা বাবার ডিভোর্সের পরে মা কাস্টডি না পাবার জন্য এই শিশুটি তার জন্মদাতা পুরুষটির দ্বারা রেপের শিকার হয়েছে এর আগেও কয়েকবার। হাসপাতালে নেয়ার পর ডাক্তার, সিনিয়র ডাক্তার এবং কাউন্সিলর সবাই বিষয়টি নিশ্চিত করে মা কে জানান ”এই বারই প্রথম এই ঘটনা হয়েছে তা নয়। এই শিশু মেয়েটার সাথে এর আগেও অনেক বার এটা করা হয়েছে ।” সাবেক সেনা বাবা মেয়েকে স্কুলে নামিয়ে দেয়ার নাম করে জোর করে মার কাছ থেকে মেয়েকে নিয়ে যেয়ে শেষ বার ধষর্ণ করে। মেয়ে শুধু বলতে পারে মা পেটে ব্যথা। আগেও মেয়ে মাকে বলেছে বাবা রাতে আসে, তাই পেটে ব্যথা। এই ধর্ষণের স্বাক্ষী মেয়েটার ছোট ভাই।

একই ভাবে পুরুষটি তার স্ত্রীর উপরও নির্যাতন চালিয়েছেন শারীরিক ও মানসিকভাবে। ভদ্র মহিলা অসংখ্যবার পুলিশে কমপ্লেইন করেছে, ৯৯৯ এ কল করে সহযোগিতা চেয়েছে, থানায় জিডি করেছে। কিন্তু কোথাও কোনো সহযোগিতা পান নি।

এই সমাজে একজন নারী শুধুমাত্র নারী হিসেবেই নয়, স্ত্রী হিসেবে এবং কন্যা সন্তানের মা হিসেবেও প্রায়শই অনিরাপদ বোধ করেন বা অনিরাপদ ভাবতে বাধ্য হন। একজন ডিভোর্সী নারী হিসেবে সমাজে এই মহিলাটিকে যে হেনস্তার শিকার হতে হয়েছে তা সহজেই অনুমান করা যায়, কিন্তু একজন মা হিসেবেও তাকে পোহাতে হয়েছে একই যন্ত্রণা কারণ এইক্ষেত্রে ভিকটিম দু’জন, শিশু কন্যাটি ও তার মা।

পিতৃত্ব শুধুমাত্র স্পার্ম শেয়ারিং নয়, পিতৃত্ব হচ্ছে তিলে তিলে সন্তানকে স্নেহ, মায়া, মমতায় বড় করে তোলা। জন্মলগ্ন থেকে তার দায়িত্ব নিয়ে, সন্তানের কান্না হাসির সাক্ষী হয়ে, স্কুলে হাত ধরে নিয়ে গিয়ে, সন্তানকে সাহস দিয়ে সামনে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া। সর্বোপরি, আদরে আর শাসনে সন্তানকে মানুষ করে গড়ে তোলা।


  • ৫৫৬ বার পড়া হয়েছে

পূর্ববর্তী লেখা পরবর্তী লেখা

বিঃদ্রঃ নারী'তে প্রকাশিত প্রতিটি লেখার বিষয়বস্তু, ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়া ও মন্তব্যসমুহ সম্পূর্ণ লেখকের নিজস্ব। প্রকাশিত সকল লেখার বিষয়বস্তু ও মতামত নারী'র সম্পাদকীয় নীতির সাথে সম্পুর্নভাবে মিলে যাবে এমন নয়। লেখকের কোনো লেখার বিষয়বস্তু বা বক্তব্যের যথার্থতার আইনগত বা অন্যকোনো দায় নারী কর্তৃপক্ষ বহন করতে বাধ্য নয়। নারীতে প্রকাশিত কোনো লেখা বিনা অনুমতিতে অন্য কোথাও প্রকাশ কপিরাইট আইনের লংঘন বলে গণ্য হবে।


মন্তব্য টি

লেখক পরিচিতি

সুমনা গুপ্তা

সহকারী অধ্যাপক ইংরেজি বিভাগ জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়।

ফেসবুকে আমরা