মাদ্রাসায় শিশু নির্যাতনে নীরব বাংলাদেশ, কারণ কী!

বুধবার, এপ্রিল ১০, ২০১৯ ২:৫৭ AM | বিভাগ : সাম্প্রতিক


নুসরাত ফারিয়া মেয়েটি কি মারা গেছে? আমি নিশ্চিত হতে পারিনি। ৭ বছরের একটা বাচ্চা ছেলেকেও মাদ্রাসার হুজুররা জবাই করে মেরে ফেলেছে। ছবির লোকটিকে দেখুন, কি রকম সুন্নতী আল্লাওয়ালা লোক।

এরকম লোকজনকে মানুষ বিশ্বাস করে। এরা অন্যায় করে না কারণ এরা আল্লাহকে ভয় করে। এদের কাছে তাই মেয়েদের পাঠায় পড়তে। স্কুলে পাঠালে হুজুর বলেছে কোটম্যারেজ করে চলে যাবে। স্কুলে তো কুরআন শিক্ষা দেয়া হয় না। স্কুলে তাই জিনার কারবার। বাপ-মা মহিলা মাদ্রাসায় পাঠায় জিনার ভয়ে। আর সেখানেই হুজুরের লালসার শিকার হয় শিশুরা। ছোট ছোট বাচ্চাগুলি বলৎকারের শিকার হয়। আহমদ শফি কয়েকদিন আগেই বলে গেছে, প্রত্যেক পরিবারে একজন করে আলেম বানাতে হবে। কারণ একজন আলেম পরিবারের ৫ জন করে মানুষকে জান্নাতের সুপারিশ করতে পারবে। এ জন্য ধনী স্বচ্ছল পরিবারের লোকজনও এখন মাদ্রাসায় পড়ায়। মহিলা মাদ্রাসায় গরীব ঘরের মেয়েরাই কেবল পড়ে না। প্রতিটি মাদ্রাসা এখন হয়ে উঠেছে হেরেমখানা। রাত গভীর হলে মাদ্রাসাগুলিতে চলে শিশুকামীতা। এসব ঘটনা একের পর এক প্রাকশ্যে এলেও সরকার থেকে কোনো ব্যবস্থা নেয়া হয় না। তারা দেশের শিক্ষা ব্যবস্থাকে মানে না। সরকারী সিলেবাসকে গ্রাহ্য করে না। তারা কোনো আইন কানুনকে তোয়াক্কা করে না।

শরীয়া চাই বলে ফেইসবুকে মাঝে মাঝে মুমিনদের আহাজারি শুনি। দেশের একটা বড় অংশ নাকি শরীয়া তথা আল্লার আইনে পরিচালিত হওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেছে। তাহলে তো এইসব হুজুরদের শরীয়া অনুযায়ী এখন পাথর ছুড়ে হত্যার দাবী উঠার কথা? নুসরাতের পর ৭ বছরের একটা বাচ্চাকে খুন করে ফেলার মত বর্বরতার প্রতিক্রিয়ায় কি মাদ্রাসাগুলিতে নিরাপত্তা জোরদার করা হবে? হুজু্র দেখলেই মানুষ মারমুখি হয়ে উঠবে? কারণ বার্মাতে গুলি চললে বাংলাদেশের মঠগুলিতে পুলিশ পাহাড়া বসে। ভারতে সমস্যা হলে বাংলাদেশে মন্দির পুড়ে। ব্রাহ্মণবাড়ীয়ার মাদ্রাসার ছাত্রদের হাতে আলাউদ্দিন খাঁ সংগীতালয় তছনছ হয়ে গিয়েছিলো। উত্তেজিত জনতাকে ঠান্ডা রাখতে নির্দোষ রসরাজকে জেলের ঘানি টানাতে হয়েছিলো। কিন্তু নুসরাতের প্রতি এতখানি নির্মমতা হওয়ার পর দেশের ইসলামপ্রেমি জনগণ আশ্চর্য রকমের নীরব।

৭ বছরের একটা বাচ্চাকে হত্যার পর কেউ সেই মাদ্রাসা ঘোরাও করতে যায়নি কেনো? রাজকুমার সেন নামে কে একজন মুহাম্মদকে নিয়ে কটুক্তি করেছে তাই গোটা হিন্দু পাড়া জ্বালিয়ে দেয়ার কথা এরাই বলে! এই হত্যাগুলো নিয়ে ফেইসবুকে হৃদয়গ্রাহী কোন পোস্টার এখন পর্যন্ত দেখিনি। ভারতের কোন মন্দিরে আটকে রেখে যদি নুসরাতের মত কোন মেয়েকে রেইপ করা হতো কিংবা বার্মায় কোন রোহিঙ্গা মুসলিম বাচ্চার মৃত দেহ হলে পোস্টার হিট হত খুব। তখন পোস্টারে ছেয়ে যেতো ফেইসবুক। ফালানীর ভাই-বেরাদারদেরও তাই কোন প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে না। কারণ এখানে ভারত নেই। বিষয়টাতে মাদ্রাসা শিক্ষা এসে পড়াতে সবাই খুব বিব্রত! প্রধানমন্ত্রী নুসরাতের দায়িত্ব নিয়েছেন। তিনি হুজুরদের দায়িত্ব আরো আগে নিয়ে রেখেছেন। দুই নৌকায় পা দিয়ে তিনি এখন কার পক্ষে কার বিপক্ষে কথা বলবেন?

ধার্মীক মাত্রই এই দুই নৌকার ছওয়ারি। মরনের সময় এই হুজুররা এসে জানাজা দিবে। হুজুর পুরোহিত সম্পর্কে মানুষ কয়েক হাজার বছরের জিনগত ভক্তি বহন করে চলেছে। ধর্ম ব্যবসা তাই কোন কালেই ভাটা পড়ে না। নুসরাত কিংবা এই ছোট্ট ছোট্ট শিশুদের খুনিদের প্রতি তাই পাবলিকের ক্ষোভটা কখনই জ্বলে উঠে না। তাদের দরকার রসরাজের রক্ত! শ্যামলকান্দি, রাজকুমার সেন…। না হলে খেলা জমে না!


  • ১৬৩ বার পড়া হয়েছে

পূর্ববর্তী লেখা পরবর্তী লেখা

বিঃদ্রঃ নারী'তে প্রকাশিত প্রতিটি লেখার বিষয়বস্তু, ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়া ও মন্তব্যসমুহ সম্পূর্ণ লেখকের নিজস্ব। প্রকাশিত সকল লেখার বিষয়বস্তু ও মতামত নারী'র সম্পাদকীয় নীতির সাথে সম্পুর্নভাবে মিলে যাবে এমন নয়। লেখকের কোনো লেখার বিষয়বস্তু বা বক্তব্যের যথার্থতার আইনগত বা অন্যকোনো দায় নারী কর্তৃপক্ষ বহন করতে বাধ্য নয়। নারীতে প্রকাশিত কোনো লেখা বিনা অনুমতিতে অন্য কোথাও প্রকাশ কপিরাইট আইনের লংঘন বলে গণ্য হবে।


মন্তব্য টি

লেখক পরিচিতি

সুষুপ্ত পাঠক

বাংলা অন্তর্জালে পরিচিত "সুষুপ্ত পাঠক" একজন সমাজ সচেতন অনলাইন একটিভিস্ট ও ব্লগার।

ফেসবুকে আমরা