তাহমিনা শিখা

ডেপুটি সেকশন ম্যানেজার (সিপি বাংলাদেশ)।

যৌন শিক্ষা (Sex Education)

সেদিন ভার্সিটিতে ছোট্ট একটা কোর্স ছিলো সেক্স এডুকেশন এর উপর। সেই আলোচনায় ছেলেমেয়ের বয়ঃসন্ধিকালে শারীরিক এবং মানসিক বিভিন্ন পরিবর্তন এবং চাহিদাগুলো উঠে আসে। আলোচনা হয় জেন্ডার ইকোয়েলিটি, পিরিয়ড, মাস্টারবেশন, যৌনমিলন, জন্ম নিয়ন্ত্রণ, এবোরশন, রেপডসহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে। দেখানো হয় বিভিন্ন শিক্ষামূলক ভিডিও।

এখানকার মতো অন্যান্য উন্নত দেশগুলোতে স্কুল এবং কলেজে সেক্স এডুকেশন বাধ্যতামূলক। কারণ, সঠিক যৌন শিক্ষাই একজন মানুষকে মানবিক করে তোলে। উন্নত দেশগুলোতে একদম ছোটবেলাতেই পরিবার থেকে শিখানো হয় গুড টাচ্, ব্যাড টাচ্। আর পরবর্তীতে স্কুলে শিখান শিক্ষকেরা। সেই আলোচনার পর উপলব্ধি করলাম, শিক্ষায় এবং সচেতনতায় কতোটা পিছিয়ে আছি আমরা।

এদেশে ছেলেমেয়েরা একসাথে চলাফেরা করে ছোটবেলা থেকেই। চলাফেরা করে না, করতে দেয়া হয় যাতে একে অপরকে জানতে পারে, যেনো পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ জন্মায় ছোটবেলা থেকেই। ছেলে, মেয়ে কিংবা তৃতীয় লিঙ্গের সবাইকে যেনো সমান ভাবতে পারে তারা। এখানে আপনার, আমার মতো তৃতীয় লিঙ্গের মানুষেরও আছে সঠিক মূল্যায়ন। আর সবার মতোই এই তৃতীয় লিঙ্গের মানুষগুলোও পড়াশোনা করছেন, কাজ করছেন বিভিন্ন জায়গায়।

প্রথম দিকে খুব অবাক হতাম এসব দেখে, কেউ তো তাঁদেরকে অন্যভাবে দেখছে না, অন্য বন্ধুদের চেয়ে আলাদা ভাবছে না !! অথবা, কেউ হিজড়া বলে গালি দিচ্ছে না, বিব্রতকর আচরণ করছে না !!

অথচ, আমাদের দেশে ছেলে এবং মেয়েকে ভাবা হয় আলাদা স্তরের মানুষ। আর হিজড়া শব্দটা একটা গালি হিসেবে ব্যবহৃত হয় আমাদের দেশে। আমাদের দেশে কয়টা তৃতীয় লিঙ্গের মানুষ আছেন যারা নিগ্রহের শিকার হন না? আর দশটা মানুষের মতো স্বাভাবিক অধিকার, আচরণ পান আমাদের কাছ থেকে?

এদেশে ছেলেমেয়ে (বন্ধু) একজন আরেকজনের হাত ধরছে, মারামারি করছে, মন খারাপ করলে জড়িয়ে ধরে সান্ত্বনা দিচ্ছে, অথচ দু’জনের মাঝে কোনো জড়তা নেই। আর প্রেমী যুগলেরা (নবীন এবং প্রবীণ), রাস্তায় হাঁটলে সারাক্ষণ হাত ধরে রাখছে, দু’জন দু’জনকে খাইয়ে দিচ্ছে, প্রকাশ্যেই ছোট্ট করে চুমু খাচ্ছে।

আর আমাদের দেশে ছেলেমেয়ে একসাথে চলাফেরা করতে দেখলেই আমরা বাঁকা চোখে তাকাই। ছেলেমেয়ে একসাথে চলাফেরা করছে মানেই তারা উচ্ছন্নে যাচ্ছে। সেখানে প্রেম আমাদের সমাজে বিভীষিকা স্বরূপ। ছেলেমেয়ে হাত ধরে হাঁটছে, সিনেমা দেখতে গেছে একসাথে, কিংবা রিকশায় হুড তুলে ছোট্ট একটা চুমু খেয়েছে, সেটা যেনো পৃথিবীর সবচেয়ে নোংরাতম কাজ। আর তাই তো, ভালোবেসে টিএসসিতে কোনো যুগল প্রকাশ্যে চুমু খেলে আমরা সেটা ভাইরাল করি অকথ্য গালিগালাজে। এর কারণ সঠিক শিক্ষার অভাব।

আমাদের দেশে ছেলেমেয়েরা নিজেদের জানার সুযোগই পায় না। প্রথম থেকেই একটা দ্বিধা, জড়তা, দূরত্ব সৃষ্টি হয় নিজেদের মাঝে। ফলে শ্রদ্ধাবোধ ব্যাপারটা তাঁদের মাঝে আসেই না। বরং এই দূরত্বই তাঁদেরকে ভুলভাবে নিজেদের জানতে আগ্রহী করে তুলে। কথায় আছে, নিষিদ্ধতা আগ্রহ বাড়ায়। সুতরাং, ছেলেমেয়েকে সঠিকভাবে গড়ে তুলতে হলে তাঁদের নিজেদের জানতে দিন। নিজেদের মধ্যে শ্রদ্ধাবোধ জন্মালে তারা কখনো ভুল পথে এগুবে না।

উন্নত দেশগুলোতে বয়ঃসন্ধিকালে বাবা মায়েরা সন্তানকে দেন বাড়তি সময়। জানতে চান শারীরিক এবং মানসিক পরিবর্তন নিয়ে তার অনুভূতিগুলো। এ সময় তারা সন্তানের পাশে থাকেন, তাঁদের সাথে আরো সহজ আচরণ করেন। এদেশের বাবা মায়ের সাথে সন্তানের সম্পর্কটা এতোটাই বন্ধুসুলভ, সন্তান বাবা মায়ের কাছে তার সবরকম অনুভূতির কথা শেয়ার করে, তার বন্ধুত্ব, ভালোলাগা, প্রেম, এমন কি যৌনতাও!

অথচ আমাদের দেশে মা-বাবা কখনো সন্তানের বন্ধু হয়ে উঠেন না। উঠতি বয়সে আকস্মিক শারীরিক এবং মানসিক পরিবর্তনে ছেলেমেয়েরা হয়ে পড়ে কোণঠাসা, কখনো কুঁকড়ে যায় ভয়ে, কখনো লজ্জায়। এ সময় মা-বাবার উচিৎ সন্তানের পাশে থাকা, সন্তানের বিভিন্ন সমস্যা, জিজ্ঞাসা কিংবা অনুভূতিগুলো জানার চেষ্টা করা। সন্তানের সাথে বন্ধুসুলভ আচরণ করা, যা আমাদের মা-বাবারা কখনোই করেন না। ফলে, মা-বাবার সাথে ছেলেমেয়েদের বাড়তে থাকে দূরত্ব, আড়ষ্টতা, গোপনীয়তা। অনেক সময় সন্তান চলে যায় ভুল পথে, ভুল সংস্পর্শে, জড়িয়ে যায় অন্যায় কাজে। যখন অন্যায় প্রকাশ পায় তখন বাবা-মায়েরা উল্টো ছেলেমেয়েদেরই কুলাঙ্গার বলে গালি দেন। অথচ ভেবে দেখেন না, সন্তানের আজকের এই পরিণতির জন্যে দায়টা সবচেয়ে বেশী কার?

ছেলেমেয়েদের হয়তো নামী স্কুলে পড়াচ্ছেন, ভালো খাওয়াচ্ছেন, দামী জামা-জুতো, মোবাইল কিনে দিচ্ছেন, আপনার সাধ্যের মধ্যে সবটুকু চেষ্টা করে গেছেন, কিন্তু ওদের আপনার একটু সময় দেন নি। ব্যস..সবই বৃথা। সুতরাং, সন্তানদের সময় দিন। তাঁদের সাথে বন্ধুসুলভ আচরণ করুন, তাঁদের বন্ধু হতে চেষ্টা করুন। যেনো ছেলেমেয়েদের কুলাঙ্গার বলতে না হয়, বরং যেনো তাঁদের জন্যে আপনারা গর্বিত মা-বাবা হতে পারেন।

আলোচনা হয় পিরিয়ড নিয়ে। যা সেখানকার ছেলেমেয়েদের কাছে নিতান্তই স্বাভাবিক ব্যাপার। বলা হয়, প্রতিটা ছেলের জানা উচিৎ এই সময়কার মেয়েদের শারীরিক এবং মানসিক অবস্থা। একজন ভাই, বন্ধু, প্রেমিক হিসেবে সেই সময়ের করনীয় কি সেটা সম্পর্কে জ্ঞান থাকা উচিৎ। এটা কোনো লুকোনোর বিষয় নয়, প্রতিটা মানুষের জন্মের মূলে রয়েছে পিরিয়ড। সুতরাং কেনো এটা লজ্জার হবে? তাঁদের জানানো হয় যেনো কোনো মেয়ের কাপড়ে রক্তের দাগ দেখলে কিংবা তার পিরিয়ড চলছে বুঝতে পারলে কোনোভাবেই তাকে বিব্রত না করা হয়। বরং তার সাথে যেনো স্বাভাবিক আচরণ করে, তাকে সাহায্য করে বিভিন্নভাবে। এখানকার স্কুল, কলেজগুলোতেই থাকে ফ্রি প্যাডের ব্যাবস্থা।

অথচ আমাদের দেশে পিরিয়ড নিয়ে প্রকাশ্যে আলোচনা নিষেধ। বরং এই সময়টায় মেয়েদের থাকতে হয় কুন্ঠিত, শঙ্কিত। যেনো একটু অসাবধানতায় বড় কোনো অপরাধ প্রকাশ পেয়ে যাবে। পিরিয়ড নিয়ে আমাদের দেশে রাস্তার একজন অশিক্ষিত লোক থেকে শুরু করে অফিসের সর্বোচ্চ বিদ্যাপীঠ থেকে পড়ে আসা কলিগের কাছ থেকেও শুনতে হয় নানা বিব্রতকর কথা। যেনো পিরিয়ড মানেই এক ফানি, কৌতূহলের বিষয়। কী, মুখ এমন ফ্যাকাশে ক্যান? বলে মুচকি হাসা, রোজা রাখেন নাই নাকি? বলতে পেরে তৃপ্তির ঢেঁকুর তোলার বিষয়।

অবশ্য পিরিয়ড নিয়ে লুকোছাপা করাটা মেয়েদের/মায়েদের মাঝেও কম নেই! পরিবারের মেয়েরাই মেয়েদের শিখায় পিরিয়ড একটা নিষিদ্ধ ব্যাপার, যা সামনে আনা যাবে না, অসহ্য যন্ত্রণায় চিৎকার করা যাবে না। পিরিয়ডের কাপড় শুকোতে হবে ঘরের সবচেয়ে অন্ধকার জায়গা, আলনার পিছনে। ভেজা, স্যাঁতসেঁতে কাপড়ে তোমার বড় রোগ হোক তবুও, প্রকাশ্যে সুস্থ হওয়ার চেষ্টা করো না। যারা পিরিয়ড নিয়ে প্রকাশ্যে কথা বলার বিপক্ষে বা বলাটা অশোভন মনে করেন তারা জানেনও না কি দুর্বিষহ সময় কাটাতে হয় এই সময় একটা মেয়ের। সেই মেয়েটা হতে পারে আপনার বোন, বন্ধু কিংবা প্রেমিকা।

পিরিয়ড নিয়ে লিখতে গেলে অনেক কথা আসে, অনেক বড় করে লিখতে হয়, তবুও কিছুটা লিখছি। এখনো গ্রাম কিংবা মফস্বলের মেয়েরা প্যাড ব্যবহারে অভ্যস্ত নয়, কাপড়ই তাঁদের ভরসা। অথচ তারা জানে না ঠিক কতোদিন একটা কাপড় ব্যবহার করা উচিৎ। যেহেতু সে শিক্ষা এদের নেই, সুতরাং অনির্দিষ্টকালের জন্যে ব্যবহার করা কাপড় আস্তে আস্তে তাঁদের নিয়ে যায় মৃত্যুর দোরগোড়ায়। একটু অসাবধানতায় তারা ভোগেন জরায়ু ক্যান্সারের মতো জটিল রোগে।

প্রতিকারের চেয়ে প্রতিরোধ ভালো। সুতরাং এখনই সচেতন হওয়া জরুরি। কাপড়ের চেয়ে প্যাড ব্যবহার অনেক বেশি নিরাপদ। প্যাড হয়তো কিছুটা বাড়তি খরচ যোগ করবে প্রতিমাসের হিসেবে, কিন্তু সেটা আমার, আপনার কিংবা আপনার মা, বোন, প্রেমিকার জীবনকে ক্যান্সারে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি থেকে নিরাপদ রাখবে। ক্যান্সারের চিকিৎসা কতোটা ব্যয়বহুল এবং তাতে সেরে উঠার নিশ্চয়তা কতখানি কম তা আমরা কমবেশি সবাই জানি। সুতরাং আজই আপনার মা, বোন কন্যা, স্ত্রী কিংবা প্রেমিকাকে জিজ্ঞেস করে জানুন তারা প্যাড ইউজ করছে কিনা! তাঁদের বলুন একটু বাড়তি খরচ করে প্যাড ব্যবহার করতে, নিজের প্রতি সচেতন হতে কিংবা নিজেই কিনে এনে দিতে পারেন সেটা। ভবিষ্যৎ এ পরিবারের কারোর ক্যান্সারের পিছনে টাকা ব্যয় করার চেয়ে এখনই নিজে সচেতন হোন পরিবারকে সচেতন করুন।

আমাদের দেশের মায়েরা/মেয়েরা কখনোই প্রকাশ্যে এসব ব্যাপার আলোচনা করতে চান না। সুতরাং, একজন সচেতন মানুষ হিসেবে আপনার দায়িত্ব মায়ের কিংবা বোনের প্রতি সচেতন হওয়া, তাঁদের কাছে পিরিয়ড নিয়ে আলোচনা স্বাভাবিক করে তোলা।

পিরিয়ড এবং প্যাড ব্যবহারে সচেতনতার উপর "Padman" নামে একটা হিন্দী সিনেমা আছে (নীচে লিংক দেয়া আছে)। সচেতনতামূলক চমৎকার সিনেমা এটা। আপনার পরিবার, তথা, ভাই-বোন, বন্ধুদের নিয়ে দেখতে পারেন। এটা আপনাকে এবং আপনার পরিবারকে সামাজিক এবং ধর্মীয় ট্যাবু ভেঙে সচেতন হতে সাহায্য করবে। আমাদের দুর্ভাগ্য আমাদের দেশে এমন কোনো সিনেমা এখন পর্যন্ত তৈরি হয় নি। সুতরাং, আর কুন্ঠা নয়, লজ্জা নয়। পিরিয়ড নিয়ে প্রকাশ্যে আলোচনা জরুরি।

আলোচনায় আসে মাস্টারবেশন বা হস্তমৈথুন। খুব স্বাভাবিক একটা বিষয়, যা কৈশোর থেকে যৌবন কিংবা আরো সময়ের পরে, এমন কোনো ব্যক্তি নেই যিনি মাস্টারবেশন/হস্তমৈথুন করেন নি। শুধু ছেলে নয়, মেয়েরাও করে। জানানো হয়, সপ্তাহে দু/তিন দিন মাস্টারবেশন স্বাভাবিক, বরং শরীরের জন্যে উপকারী, এতে শারীরিক এবং মানসিক উত্তেজনা কমে, স্থিরতা আসে। তবে মাত্রাতিরিক্ত হস্তমৈথুন ক্ষতিকর সেটাও জানানো হয়।

কৈশোর কিংবা যৌবনে যৌন আকর্ষণ বেশি থাকে বলে অনেকেই মাস্টারবেশন/হস্তমৈথুন করেন। আর আমাদের দেশের সামাজিক রীতিনীতি অনুযায়ী বিয়ে ছাড়া সেক্সুয়াল সম্পর্কে জড়ানো নিষিদ্ধ, অথচ প্রাপ্তবয়স্ক হওয়ার অনেক পরেও যারা যোগ্যতা কিংবা সঠিক সময়ের অভাবে বিয়ে করতে পারছেন না, মাস্টারবেশন/হস্তমৈথুন তাঁদের জন্যে বিকল্প এবং বাধ্যতামূলক। অথচ, মাস্টারবেশন নিয়েও প্রকাশ্যে কোনো আলোচনা করা হয় না আমাদের দেশে। খুব নিষিদ্ধ বিষয়ের মতো এড়িয়ে যাই আমরা। পরিবার কিংবা স্কুল, কলেজে কোথাও এ নিয়ে কোনো আলোকপাত নেই। অথচ শারীরিক চাহিদা অনুযায়ী এই ধাপটাও সকলকে পেরিয়ে আসতে হয়। ফলে বন্ধুর কাছ থেকে শুনে, ইন্টারনেট দেখে, চটি পড়ে ভুল শিখছে, ভুল জানছে, ভুল ব্যবহার করছে অনেকেই। কেউ কেউ ক্যানভাসারের কাছ থেকে বিভিন্ন মেডিসিন ব্যবহার করে এগিয়ে যাচ্ছেন বড় কোনো রোগের দিকে। না জেনে মাত্রাতিরিক্ত মাস্টারবেশন এ বাড়ছে ভবিষ্যৎ এর রোগের মাত্রা।

আরেকটা সমস্যা হলো মাস্টারবেশন কিংবা হস্তমৈথুন ধর্মে নিষিদ্ধ, পাপ। কিন্তু শরীর তো শরীরের নিয়মে জাগবেই সুতরাং এই পাপ থেকে বাঁচতে গিয়ে ধর্মান্ধ লোকজন মেয়ে, ছেলে, এমন কি গরুছাগলকেও ধর্ষণ করতে বাদ রাখেন না। এদিকে নিজেদের ধর্মও রক্ষা করলেন, আবার শারীরিক আনন্দও উপভোগ করলেন। অথচ, কতো বড় একটা অমানবিক কাজ করলেন তা একবারও ভাবলেন না !!

আমরা বই পড়ে কিংবা বিভিন্নভাবে শুনে থাকি হস্তমৈথুন নিষিদ্ধ/অবৈধ, কিন্তু কোথাও কাউকে বলতে শুনি না, ধর্ষণ তারচেয়ে বেশী জঘন্য, অমানবিক, নিষিদ্ধ কাজ! মাস্টারবেশন কিংবা হস্তমৈথুন কেনো নিষিদ্ধ বলা হয়েছে, ভেবে দেখেছেন কখনো! একটা জাতি হস্তমৈথুনে অভ্যস্ত হয়ে গেলে নারী এবং পুরুষ, তাঁদের মাঝে স্বাভাবিক যৌনমিলনের উৎসাহ কমে যাবে কিংবা উৎসাহ হবে না। যার ফলে সন্তান জন্মগ্রহণ কমে যাবে, যা একটা সময় সমাজে দীর্ঘকালীন ভারসাম্যহীনতা তৈরি করবে। এছাড়া এর পেছনে কোনো যুক্তিযুক্ত কারণ খুঁজে পাই না। এটা প্রাকৃতিক অন্যান্য নিয়মের মতোই খুব স্বাভাবিক একটা ব্যাপার। সুতরাং হস্তমৈথুন এর জন্যে নিজেকে দোষী, পাপী ভাবার কিছু নেই, যখন আপনার প্রয়োজন মনে হবে, আপনি নির্দ্বিধায় করতে পারেন। অন্তত এটা অনেক ভালো একটা উপায় (বিশেষ করে ছেলেদের) নিজেকে মানসিক এবং শারীরিকভাবে সুস্থ রাখার। আমি মনে করি এর মাধ্যমে রাস্তাঘাটে, ঘরে-বাইরে মেয়েদের উপর সহিংসতা, ধর্ষণ এবং উত্যক্ত করা অনেক কমে আসতে পারে। সুতরাং এ বিষয়গুলোকে সামনে আনতে হবে। প্রকাশ্যে আলোচনার মাধ্যমে কোনটা ভুল কোনটা সঠিক তা শিখতে হবে।

তারপরই আলোচনা হয় যৌনমিলন নিয়ে। এখানে শারীরিক আকর্ষণ থেকে স্বেচ্ছায় ছেলে মেয়ে যৌন মিলনে মিলিত হতে পারে, সেটা বিবাহিত কিংবা অবিবাহিত অবস্থাতেও। আলোচনা হয় সেক্স/যৌনতা একটা স্বাভাবিক চাহিদা, যা চাইলেও উপেক্ষা করা যায় না। সেক্স একটা মধুর আর্ট, যদি তা দুজনের ইচ্ছেয় হয় এবং দুজনেই তৃপ্ত হয়ে থাকেন। সেক্স কোনো একপাক্ষিক আকর্ষণ কিংবা তৃপ্তির ব্যাপার নয়। সঙ্গীর ইচ্ছে, অনিচ্ছের মূল্যায়ন করার প্রতি গুরুত্ব দেওয়ার কথা উল্লেখ করা হয়।

অথচ, আমাদের দেশের যৌনতা বা সেক্স কথাটা প্রকাশ্যে উচ্চারণই করা হয় না। যেনো বিশাল নিষিদ্ধ কিছু একটা ব্যাপার। অধিকাংশ পুরুষ জানেই না প্রেমের প্রকাশ কেমন হওয়া উচিৎ, তারা প্রেম সৃষ্টিই করতে জানেন না। সেখানে যৌনতা আরো জটিল হয়ে উঠে যখন প্রেমের সঠিক প্রকাশ না পায়। আমাদের দেশে একজন শিক্ষিত এবং অশিক্ষিত পুরুষের যৌনতা উপস্থাপনের ধরণে খুব একটা তফাৎ থাকে না। ফলে নারীর কাছে যৌনতা হয়ে যায় অনাগ্রহ কিংবা আতঙ্কের বিষয়।

যৌনতা নিয়ে অতিরিক্ত কল্পনা করা অধিকাংশ পুরুষই বিয়ে করে শুধু একজন সেক্স পার্টনারের আশায়। আমাদের দেশে (বিশেষত পুরুষেরা) পর্ণোগ্রাফি দেখে, চটি গল্প পড়ে, বন্ধুদের কাছে শুনে কিংবা সেক্স নিয়ে অতিকল্পিত হয়ে যৌনতাকে জীবনের বড় লক্ষ্য করে তুলে। অধিকাংশ পুরুষের চাহিদা থাকে একটি কুমারী মেয়ের, যে তার কুমারীত্ব হারায় নি এখনো। সেই পুরুষটি যৌনতা নিয়ে কল্পিত ছবির সাথে যখন বাস্তবের সামঞ্জস্য না পায়, তখন জীবন হয়ে উঠে দুঃসহ। অথচ, মেয়েদের কুমারীত্ব হারানোর সাথে শুধু যৌনতার কোনো সম্পর্ক নেই। শারীরিক অনুশীলন, দৌড়ঝাঁপ, সাঁতার এবং অন্যান্য অনেক কারণেও কুমারীত্ব হারাতে পারে। সুতরাং, মেয়েটি কুমারী কি কুমারী নয়, সে ভাবনা বাদ দিয়ে তাকে সম্মান করতে শিখুন। সতীচ্ছদের পর্দা দিয়ে যদি মেয়েদের সতীত্ব মাপতে যান তবে বুঝে নিবেন সমস্যাটা আপনার মগজে, আপনার মননে।

যৌনতা নিয়ে আমাদের দেশের অধিকাংশ পুরুষের মনোভাব যৌনতা তাঁদের একপাক্ষিক চাহিদা এবং চাহিবামাত্র নারী তা দিতে বাধ্য থাকবে। এমন কি এক্ষেত্রে নারীদের ধারণাও অনেকটা এমনই। অধিকাংশ মেয়েরা এখনো জানেই না, তার দেহের সৌন্দর্যের কথা, আলো জ্বেলে আবিস্কার করে নি তার অপার সৌন্দর্য। একটা অন্ধকার বদ্ধ ঘরেই কেটে যায় তার জীবনের পুরোটা সময়।

যৌনতা জীবনের একটা চরম সত্য, সুন্দর একটা অংশ, যা অনুভবের, উপভোগের। এর বেশী কিছুই নয়।

প্রিয় পুরুষেরা, মেয়েদের যৌনবস্তু, ভোগ্যবস্তু ভাবা বন্ধ করুন। আপনার মতো তাঁদেরও আছে ইচ্ছে, অনুভূতি, আকাঙ্ক্ষা। সুতরাং সঙ্গীর ইচ্ছে, অনিচ্ছে, আবেগ, অনুভূতির প্রতি যত্নশীল হোন। পুরুষ হয়ে, বন্ধু হয়ে উঠুন, প্রেমিক হয়ে উঠুন। একই কথা নারীর ক্ষেত্রেও।

"বুক ফাটে, তবু মুখ ফোটে না", এভাবে আর কতোদিন? নিজেদের বস্তু ভাবা বন্ধ করুন। মানুষ ভাবতে শিখুন, নিজেকে সম্মান করতে শিখুন। নিজেদের ইচ্ছে, অনুভূতির কথাগুলো মুখ ফুটে বলতে শিখুন।

কি করে যৌনমিলনের মাধ্যমে নারীদেহে পুরুষের শুক্রাণু ডিম্বাণুতে মিলে সন্তান জন্ম নেয় ছেলে/মেয়ে হয়ে সেগুলোও আলোচিত হয়, গর্ভাবস্থায় কোন সময়টা বেশী ঝুঁকিপূর্ণ তাও জানানো হয়। দেখানো হয় বিভিন্ন ভিডিও। ভিডিওগুলো দেখাটা খুব জরুরি, অন্তত আমাদের দেশের গোঁড়া, ভন্ড লোকগুলোর এসব জানা, দেখা দরকার। মেয়ে সন্তান জন্মানোর পিছনে মেয়েদের দায়ী করার ভুল ধারণা ভাঙার জন্যে খুব জরুরি এ বিষয়গুলো জানা। ভীষণ অবাক হয়েছিলাম শুনে, এখানে দ্বিতীয় সন্তান নেওয়ার আগে বাবা মা তার সন্তানের সাথে বন্ধুর মতো আলোচনা করে তার কোনো বোন কিংবা ভাই চাই কিনা! সন্তানের মানসিক অবস্থা সম্পর্কে জানতেই এমনটি জানতে চাওয়া। কারণ, নতুন শিশুর আগমনে যেনো তার মনে বিরূপ প্রতিক্রিয়া না জন্মে, মানসিক কষ্ট না পায় !!

অথচ আমাদের দেশে সাধারণত বাবা মায়েরা সন্তানদের এসব বিষয় নিয়ে কোনোরূপ আলোচনা করেন না। আমাদের দেশের মা বাবারা প্রকাশ্যে তাঁদের আবেগ প্রকাশ করেন না, চুমু খান না, হাত ধরেন না, জড়িয়ে ধরেন না। নিজেদের আবেগ, অনুভূতি প্রকাশ করেন না, যা কিছু ঘটে বদ্ধ দ্বারের ওপারে। প্রথম কিংবা পরবর্তী সন্তান আগমন নিয়ে প্রায় সব বাবা মাকে এক গল্প বলতে শোনা যায়। বাবা মায়ের কথা শুনলে মনে হয় উনাদের সন্তান আকাশ ফুঁড়ে পৃথিবীর রাস্তায় পড়েছে আর জাদুর কাঠি ছোঁয়াতেই রাস্তা থেকে সন্তান পেটে এসে গেছে। এসব কথা শুনে শুনেই আমরা সন্তানেরা বড় হই। এই ভুল শিক্ষা দিয়েই আমাদের শুরু। বাবা মায়েদের ধারণা এটা মানুষ আপনা আপনিই শিখে।

এটা মা-বাবাদের সম্পূর্ণ ভুল ধারণা। আপনা আপনি হয়তো অনেককিছুই শিখে যায়, কিন্তু সঠিক শিক্ষার অভাবে ভুল শিখে সবচেয়ে বেশি। সুতরাং সন্তানকে সঠিক তথ্যটি দিন, ভুল শিক্ষা থেকে বিরত রাখুন।

যেহেতু সেক্সের সাথে বাচ্চা জন্ম নেওয়ার বিষয়টি সম্পর্কিত, সুতরাং জন্ম নিয়ন্ত্রণ সম্পর্কে জ্ঞান থাকাটা বাধ্যতামূলক। আলোচনায় জানানো হয় পিরিয়ডের আগে এবং পরে, কোন সময়টা ঝুঁকিপূর্ণ সময় বাচ্চা গর্ভে আসার জন্যে। তবে, যেকোনো সময়ই হোক, অবশ্যই সবসময় কনডম ব্যবহার করা উচিৎ, কিছুতেই ঝুঁকি নেয়া ঠিক নয়। আরো আলোচনা হয় কিভাবে জন্ম নিয়ন্ত্রক এবং কিভাবে জন্ম নিয়ন্ত্রিত হয়, এর ব্যবহারের নিয়মাবলী। জন্ম নিয়ন্ত্রক ব্যবহার করার মাধ্যমে কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটার ঝুঁকি থাকে না, তাতে সঙ্গীর প্রতি দায়িত্বশীলতা এবং সচেতনতা প্রকাশ পায়। এছাড়া কনডম ব্যবহারের মাধ্যমে শুধু জন্ম নিয়ন্ত্রণ নয়, বিভিন্ন যৌনরোগ থেকেও রক্ষা পাওয়া যায় সেটাও বলা হয়। ছেলেদের ক্ষেত্রে কনডম এবং মেয়েদের ক্ষেত্রে পিল ব্যবহারের কথা বলা হয়। পিল ব্যবহারে কি পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হতে পারে সে সম্পর্কেও ধারণা দেয়া হয়।

এদেশের বাবা-মায়েরা এ সম্পর্কে এতোটাই সচেতন, তারা নিজে সন্তানকে কিনে দিচ্ছে কনডম কিংবা পিল এবং সবসময় প্রোটেকশন ব্যবহার করতে বলছেন। তাছাড়া স্কুল, কলেজেই আছে কনডম কিংবা পিলের ব্যবস্থা। বিভাগীয় শিক্ষকের কাছ থেকেই নিতে পারে সেইটি এবং চাইলেই জানতে পারে ব্যবহারের ব্যাপারটি। ভাবতে পারছেন সেক্স এডুকেশন কতোটা উন্নত পর্যায়ে থাকলে এমনটা করে থাকেন বাবা-মা, কিংবা শিক্ষকেরা!

যতই শুনছিলাম ততই অবাক হচ্ছিলাম! প্রোটেকশন না থাকলে সন্তান জন্মানোর ঝুঁকি থেকে যায়, ফলে অনাকাঙ্ক্ষিত কিছু ঘটতে পারে যে কোনো মুহূর্তে। আমি অনাকাঙ্ক্ষিত বলতে অনিচ্ছাকৃতভাবে সন্তান গর্ভে আসার কথা বলছি। অপরিকল্পিত কিংবা অনিচ্ছায় আসা সন্তানকে নিয়ে যখন বিপাকে পড়ে, তখন এবোরশনের মতো অমানবিক কাজটি করতে বাধ্য হতে হয় অনেকের। এবোরশন একটি অমানবিক, জঘন্যতম কাজ। একটা প্রাণকে হত্যা করা হয় এর মাধ্যমে। এ দেশে এবোরশন করা নিষিদ্ধ এবং জন্ম নিয়ন্ত্রণের ব্যাপারে সচেতনতার কারণে এর সংখ্যাটাও খুব নগন্য।

আমাদের সামাজিক ব্যাবস্থা এবং ধর্মীয় রীতিনীতি অনুসারে অবিবাহিত অবস্থায় সন্তান গ্রহণ মারাত্মক অপরাধ। অবিবাহিত অনেকেই সামাজিক রীতিনীতির কঠোরতায় এবং বিবাহিত অনেকেই আর্থিকভাবে অক্ষমতায়, কিংবা অপরিকল্পিত সন্তান গর্ভে আসায়, খুব চুপিসারেই করে যাচ্ছে এবোরশনের মতো জঘন্য কাজটি। যেহেতু আমাদের সচেতনতার অভাব এবং আমাদের দেশে গর্ভপাত নিষিদ্ধ নয়, সুতরাং এর সংখ্যাটাও বহুল।

এখনো গ্রামে কিংবা মফস্বলে মা, খালারা কিংবা শ্বশুড়বাড়ীর বয়স্কা কেউ গোপনে বিভিন্ন গাছের শিকড় বাকড় খাইয়ে কিংবা গ্রাম্য ফার্মেসী থেকে ট্যাবলেট এনে ভ্রূণহত্যা করাচ্ছেন মেয়ে কিংবা ছেলের বউয়ের। অশিক্ষার ফলে তারা জানতেই পারছে না কতোবড় বিপদের দিকে যাচ্ছে মেয়েটা। এবোরশনে ক্ষতিটা বেশী নারীর। এবোরশনে নারী হারাতে পারে মা হওয়ার ক্ষমতা। অনেকের জরায়ুতে ক্যান্সার কিংবা অন্যান্য ভয়াবহ রোগও হয়ে থাকে এবোরশন থেকে। সুতরাং, জন্ম নিয়ন্ত্রণই সবচেয়ে নিরাপদ উপায়। তাই জন্ম নিয়ন্ত্রণ সম্পর্কে থাকা চাই সঠিক জ্ঞান ও সচেতনতা।

অনেকেই বলেন, ফূর্তি করতে পারো, অথচ তোমাদের ফূর্তির জন্যে যে এলো তাকে জন্ম দিতে পারো না?
কথাটাকে একটু অন্যভাবে বলি, যৌনমিলন আর সন্তান গ্রহণ করা দুটো সম্পূর্ণ আলাদা বিষয়। যৌনতা মানুষের স্বাভাবিক চাহিদা। এবোরশনের মতো একটা জঘন্য কাজের জন্যে ফূর্তি দায়ী নয়, দায়ী তাঁদের জন্ম নিয়ন্ত্রণ সম্পর্কে অজ্ঞতা, অসচেতনতা এবং আমাদের সামাজিক প্রেক্ষাপট।

তাই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা এড়াতে অবশ্যই প্রটেকশন/কনডম ব্যবহার করা উচিৎ। শুধু সন্তান জন্মদান করলেই হলো না, তার ভবিষ্যৎ এর জন্যে সঠিক পরিবেশ নিশ্চিত করা এবং উপযুক্ত শিক্ষা নিশ্চিত করা মা-বাবা হিসেবে আপনার প্রথম এবং প্রধান দায়িত্ব। সুতরাং, সন্তান গ্রহণের ক্ষেত্রে অবশ্যই শারীরিক, মানসিক এবং অর্থনৈতিক পরিকল্পনা থাকতে হবে মা-বাবা দুজনের।

আলোচনা ছিলো ধর্ষণ প্রসঙ্গেও। বলা হয়, নিজের ইচ্ছেকে পূরণ করতে গিয়ে শারীরিক উত্তেজনায় কাউকে জোর করে শারীরিক সম্পর্কে জড়ানো অমানবিক, লজ্জাকর, নিকৃষ্ট কাজ। চাইলেই কাউকে তার ইচ্ছের বিরুদ্ধে জোর করা যাবে না, এমন কি সম্মতি ছাড়া তার হাত ধরা কিংবা চুমুও খাওয়া যাবে না। তাঁদের এই শিক্ষাই তাঁদের এই ঘৃণ্য কাজ থেকে দূরে রাখে। এসব উন্নত দেশগুলোতে মেয়েরা স্বল্প বসনে ঘুরে বেড়ায়, কেউ তাঁদের দিকে বাজে নজরে তাকাচ্ছে না, বাজে কথা বলছে না, তার গায়ে হাত দেয়ার চেষ্টা করছে না। এগুলোই হলো সঠিক যৌন শিক্ষার সুফল।

আর সেজন্যেই উন্নত দেশগুলোতে ধর্ষণের সংখ্যাটাও অনেক কম।

এখন অনেকেই বলবেন, "যেখানে সবকিছুই খোলামেলা সেখানে জোর করার কি আছে, চাইলেই তো পাওয়া যায়"!

এ কথাটা অধিকাংশ বাঙালির মনের কথা। উন্নত দেশগুলোর সংস্কৃতি নিয়ে কথা উঠলেই এই কথাটা কানে আসে। অনেকবার অনেক প্রসঙ্গে এই কথাগুলো শুনতে হয়েছে। তাঁদের জন্যে একটি কথা, উন্নত দেশের মানুষগুলো আপনার আমার চেয়ে শিক্ষায়, সচেতনতায়, মানসিকতায় শতগুণ এগিয়ে আছে। তারা আপনার, আমার মতো "খাবার খোলা রাখলে তো মাছি বসবেই" কিংবা, "সোজা আঙুলে ঘি না উঠলে আঙুল বাঁকা করতে হবে" এমন চিন্তাধারার নয়।

তারা মানুষকে খাবার নয়, মানুষই ভাবে, তাই স্বল্প বসনে দেখলেও খাবার ভেবে আপনাদের মতো হামলে পড়ে না।

যতই শুনছিলাম অবাক হচ্ছিলাম ততই। শুধু ভাবছিলাম, শিক্ষায় কতোটা এগিয়ে গেলে, মননে কতোটা আধুনিক হলে এইভাবে বিষয়গুলো আলোচনা করা যায়! নিজের দেশের জন্যে বড্ড খারাপ লাগছিলো। উন্নত দেশগুলো থেকে শিক্ষা, সংস্কৃতি, জ্ঞানে কতোটা পিছিয়ে আছি আমরা।

উন্নত দেশগুলোর মতো আমাদের দেশেও যৌন শিক্ষা এবং যৌন সচেতনতা সম্পর্কে গুরুত্ব দেওয়া উচিৎ। প্রতিটি পরিবারে ছেলেবেলা থেকেই এই বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা হওয়া জরুরি। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে অন্যান্য বিষয়াদির মতো সেক্স এডুকেশনও বাধ্যতামূলক করা উচিৎ। অন্যান্য বিষয়ের মতো সেক্স এডুকেশনও হবে শিক্ষার বিষয়। তাহলেই আসবে সার্বিক পরিবর্তন, ছেলে মেয়ে এবং তৃতীয় লিঙ্গের মানুষ, প্রত্যেকের একে অন্যের প্রতি জন্মাবে শ্রদ্ধাবোধ। এই পরিবর্তনের মাধ্যমেই কমবে সামাজিক ও শারীরিক সহিংসতা।

সুতরাং আজ থেকেই সেক্স এডুকেশন নিয়ে আলোচনা শুরু করুন আপনার পরিবার, বন্ধুবান্ধব এবং অন্যান্যদের সাথে। কিন্তু এটা নিশ্চিত হোন আগে, আপনি যে তথ্যটি দিচ্ছেন তা সঠিক তথ্য কিনা, নিশ্চিত হোন আপনার কাছ থেকে কোনো ভুল তথ্য যেন না পায় অন্যেরা !!

শিক্ষাটা নিজের পরিবার থেকেই শুরু হোক। কারণ, অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার সূচনা পরিবারের কাছের কারোর কাছ থেকেই শুরু হয়। নিজে সচেতন হোন, সচেতন করে তুলুন অন্যদের। প্রতিটি বিষয়ে প্রকাশ্যে আলোচনা করুন, নিজে জানুন, অন্যকে জানান। যা মানবজীবনের স্বাভাবিক প্রক্রিয়া, তাকে স্বাভাবিক ভাবতে শিখুন। আপনি নিজে যে শিক্ষাটা থেকে বঞ্চিত হয়েছেন, ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে সেই শিক্ষার সুযোগ করে দিন। এভাবেই একদিন বদলে যাবে চারপাশ।

আমাদের অনেক বড় পরিসরে কাজ করা উচিৎ এই অতি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়টি নিয়ে। যাদের সুযোগ, সময় ও প্রতিভা আছে তারা বিভিন্ন শর্টফিল্ম, ডকুমেন্টারি কিংবা বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে বিষয়টা সবাইকে জানাতে পারেন। অনেকেই অনেক বিষয়ের উপর ভিডিও, শর্টফিল্ম করছি, বই লিখছি, চাইলেই এমন একটা দরকারী বিষয় তুলে ধরতে পারি সেগুলোতে।

"Padman" এর মতো আরো অনেক সচেতন সিনেমাও করতে পারি চাইলেই। পরিবর্তন একদিনে সম্ভব নয়। অন্তত বাংলাদেশের মতো দেশে, যেখানে ধর্মীয় রীতিনীতি বহুলাংশে সামাজিক ও সাংস্কৃতিক রীতিনীতি, সে দেশে পরিবর্তন বেশ সময়সাপেক্ষ। তবে শুরুটা করতে পারলেই পরিবর্তন আসবে। শুরুটা না হয় আপনার, আমার, আমাদের হাত দিয়েই হোক।

3688 times read

নারী'তে প্রকাশিত প্রতিটি লেখার বিষয়বস্তু, ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়া ও মন্তব্যসমুহ সম্পূর্ণ লেখকের নিজস্ব। প্রকাশিত সকল লেখার বিষয়বস্তু ও মতামত নারী'র সম্পাদকীয় নীতির সাথে সম্পুর্নভাবে মিলে যাবে এমন নয়। লেখকের কোনো লেখার বিষয়বস্তু বা বক্তব্যের যথার্থতার আইনগত বা অন্যকোনো দায় নারী কর্তৃপক্ষ বহন করতে বাধ্য নয়। নারীতে প্রকাশিত কোনো লেখা বিনা অনুমতিতে অন্য কোথাও প্রকাশ কপিরাইট আইনের লংঘন বলে গণ্য হবে।