রাজনৈতিক মোহ, মোহভঙ্গ এবং স্বাধীন বুদ্ধিজীবীতা প্রসঙ্গে

মঙ্গলবার, নভেম্বর ৬, ২০১৮ ২:১৮ AM | বিভাগ : সাম্প্রতিক


"There's nothing to be disillusioned with Obama, because there was nothing to be illusioned with him first of all.."

বারাক ওবামা ক্ষমতায় আসার বছর দুই পরে 'Hope' আর 'Change' এর বাবল চুপসে গেলো। দেখা গেলো যুক্তরাষ্ট্রের প্রথম ব্ল্যাক প্রেসিডেন্টের রেজিমেও ব্ল্যাকরা রাষ্ট্রীয় হত্যাকান্ডের শিকার হচ্ছে, ওবামার পররাষ্ট্র নীতি যুদ্ধবাজ বুশের চেয়ে কোনো অংশেই কম ভয়ংকর না, যুক্তরাষ্ট্রের আভ্যন্তরীণ আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, কর্মসংস্থান, সামাজিক সুরক্ষা খাতে সরকারের ব্যয় সংকোচন নীতি, অর্থনৈতিক মন্দায় যুক্তরাষ্ট্রের জনগণ মিডিয়াসৃষ্ট যে বাবলে ওবামা প্রশাসনকে 'দিন বদলের' প্রশাসন ভেবে মোহগ্রস্ত হয়েছিলো, তাদের এইবার মোহভঙ্গ হওয়া শুরু করলো।

এই প্রেক্ষিতে একজন সাংবাদিক নোয়াম চমস্কিকে প্রশ্ন করেছিলেন, ওবামার প্রতি মানুষের এত দ্রুত মোহভঙ্গের কারণ কী? উত্তরে চমস্কি বলেছিলেন, মোহভঙ্গ হতে হবে কেনো? মোহগ্রস্ত হবার মতোই বা কী ছিলো ওবামার মধ্যে? যুক্তরাষ্ট্রের আর দশটা প্রেসিডেন্টের মতো ওবামাও মিলিটারি-ইন্ডাস্ট্রিয়াল কমপ্লেক্স এর প্রধান এক্সিকিউটিভের দায়িত্ব পেয়েছেন চার বছরের জন্য। এর চেয়ে বেশি আর কী?

বাংলাদেশের রাজনীতির ক্ষেত্রেও, আজকে মোহভঙ্গ তাদেরই হচ্ছে, যারা মোহগ্রস্ত হয়েছিলেন এক সময়। সেক্যুলারজিম, অসাম্প্রদায়িকতা, প্রগতিশীলতাসহ যাবতীয় সাংস্কৃতিক মূল্যবোধকে যারা ভেবেছিলেন একটা 'ভালো' রাজনৈতিক দলের ক্ষমতায় থাকার ব্যাপার, নিজেদের ধারাবাহিক চর্চা ও সক্রিয়তার ব্যাপার নয়; মোহভঙ্গ তো তাদের হবেই। আবার একটা তথাকথিত 'ভালো কাজ' করে দেখালেই তারা খুশিতে বাকবাকুম হয়ে পুনরায় 'ভরসা' করতে শুরু করবেন।

লেখক-বুদ্ধিজীবীর দায়দায়িত্ব নিয়ে যত আলাপ-আলোচনা অনুসরণ করতে পেরেছি এ পর্যন্ত, সবখানেই একটা কথা খেয়াল করেছি। বুদ্ধিজীবীর কাজ হলো ক্ষমতার বিরুদ্ধে সত্যভাষণ ও মিথ্যা উন্মোচন করা। এটা বুদ্ধিজীবীর এক রকম দন্ড বলা যেতে পারে।

কিন্তু বাংলাদেশে বিরল ব্যতিক্রম বাদ দিলে, অদ্ভুত এবং নজিরবিহীন ব্যাপার পরিলক্ষিত হয়। এখানকার 'মূলধারা' বলে কথিত বুদ্ধিজীবীদের প্রধান বৈশিষ্ট্যই হলো তারা যেসব মূল্যবোধকে ধারণ করেন, সেসবের দায়িত্ব কোনো রাজনৈতিক দলের কাছে অর্পণ করে হাত গুটিয়ে বসে থাকা। এরপর ক্ষমতা যখন নৈর্ব্যক্তিকভাবে তার মতো ফাংশন করতে থাকবে, কোনোকিছু আশানুরূপ না হলে আহাজারি করা। মোহভঙ্গের গাঢ় বেদনায় নীল হওয়া। দিশেহারা হয়ে 'বিকল্প নাই, বিকল্প নাই' এর মতো অশ্লীল জিকির করতে থাকা।

কে জানে, বাংলাদেশের বুদ্ধিজীবীতা নন-পার্টিজান, নন-কনফর্মিস্ট হতে পারবে কিনা কখনো! প্রখর রাজনৈতিক চেতনাসম্পন্ন স্বাধীন বুদ্ধিজীবীতা, ক্ষমতার পোষ্য না হয়ে ক্ষমতার সাথে দ্বন্দ্বে লিপ্ত হয়। তেমন বুদ্ধিজীবী ও বুদ্ধিজীবীতা বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক রূপান্তর প্রক্রিয়ায় অবদান রাখতে পারবে।


  • ১০০ বার পড়া হয়েছে

পূর্ববর্তী লেখা পরবর্তী লেখা

বিঃদ্রঃ নারী'তে প্রকাশিত প্রতিটি লেখার বিষয়বস্তু, ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়া ও মন্তব্যসমুহ সম্পূর্ণ লেখকের নিজস্ব। প্রকাশিত সকল লেখার বিষয়বস্তু ও মতামত নারী'র সম্পাদকীয় নীতির সাথে সম্পুর্নভাবে মিলে যাবে এমন নয়। লেখকের কোনো লেখার বিষয়বস্তু বা বক্তব্যের যথার্থতার আইনগত বা অন্যকোনো দায় নারী কর্তৃপক্ষ বহন করতে বাধ্য নয়। নারীতে প্রকাশিত কোনো লেখা বিনা অনুমতিতে অন্য কোথাও প্রকাশ কপিরাইট আইনের লংঘন বলে গণ্য হবে।


মন্তব্য টি

লেখক পরিচিতি

সারোয়ার তুষার

অনলাইন অ্যাক্টিভিস্ট

ফেসবুকে আমরা